আপনি যদি আগরতলা হয়ে বাংলাদেশ থেকে কলকাতা যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে আপনার এই ভ্রমণকে সহজ করতে এখানে একটি ধাপে ধাপে গাইড দেওয়া হলো। কুমিল্লা থেকে শুরু করে কলকাতার শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পুরো জার্নির সব খুঁটিনাটি এই গাইডে পেয়ে যাবেন।
ভ্রমণের দিন
(যেহেতু যাত্রাটি কুমিল্লা থেকে শুরু হচ্ছে, তাই সব তথ্য এবং হিসাব এই শুরুর পয়েন্টের ওপর ভিত্তি করেই দেওয়া হয়েছে।)
ধাপ ১: কুমিল্লা থেকে আখাউড়া
- ট্রেন: সকাল ৯টার চট্টলা এক্সপ্রেস ধরুন।
- টিকিটের দাম: জনপ্রতি ৬০ টাকা।
- নোট: ট্রেন কিছুটা আগে বা পরেও আসতে পারে।
ধাপ ২: আখাউড়া জংশন থেকে আগরতলা সীমান্ত
- রিকশা ভাড়া: ৬ কিলোমিটারের এই পথের ভাড়া সাধারণত ১০০ টাকা।
- টিপ: অতিরিক্ত ভাড়া এড়াতে আগে থেকেই দরদাম করে নিন।
- ভ্রমণ কর (ট্রাভেল ট্যাক্স): ট্যাক্স অফিসে ১০০০ টাকা জমা দিন।
ধাপ ৩: ট্রাভেল ট্যাক্স এবং ইমিগ্রেশন
- ট্যাক্স রশিদে সিল মারা: পাশের রুমে গিয়ে রশিদে সিল করিয়ে নিন। পাসপোর্টে বেশি ডলার এন্ডোর্সমেন্ট দেখলে কর্মকর্তারা অনেক সময় বাড়তি টাকা বা ঘুষ দাবি করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে ঘাবড়ে না গিয়ে বুদ্ধিমত্তার সাথে শক্তভাবে কথা বলুন।
- বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন: লাইনে দাঁড়িয়ে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করুন।
- পাসপোর্টে আগরতলা পোর্ট উল্লেখ থাকলে সহজেই ইমিগ্রেশন পার হতে পারবেন।
- আগরতলা পোর্ট উল্লেখ না থাকলে: দালাল ধরতে হতে পারে, যাতে প্রায় ৫০০ টাকার মতো খরচ হতে পারে।
- চেকপয়েন্ট: ভারতীয় ইমিগ্রেশনের দিকে যাওয়ার আগে আরও একবার পাসপোর্ট দেখাতে হবে।
- ভারতীয় ইমিগ্রেশন:
- এখানে আপনার শরীর ও ব্যাগ তল্লাশি করা হবে।
- একটি ফর্ম পূরণ করে আপনার পাসপোর্টের সাথে ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে জমা দিন।
- অফিসার আপনাকে সাধারণ কিছু প্রশ্ন করতে পারেন এবং হোটেলের বুকিং স্লিপ দেখতে চাইতে পারেন।
- ইমিগ্রেশন শেষ হওয়ার পর আপনার ব্যাগগুলো স্ক্যান করিয়ে নিন।
ধাপ ৪: ভারতে প্রবেশ
- গেট পার হওয়ার পর আপনি এখন ভারতে প্রবেশ করলেন।
- অটো-রিকশা: পরের গন্তব্যে যাওয়ার জন্য সহজেই অটো পেয়ে যাবেন।
- টাকা এক্সচেঞ্জ: প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প কিছু টাকা রুপিতে এক্সচেঞ্জ করে নিন (১০০ টাকায় তারা হয়তো মাত্র ৭০ রুপি দিতে পারে)।
ধাপ ৫: আগরতলা ঘোরাঘুরি
- লোকাল দর্শনীয় স্থান: হাতে সময় থাকলে কাছাকাছি রাজবাড়ির মতো জায়গাগুলো ঘুরে দেখতে পারেন।
- অটো ভাড়া: ৫০ রুপি।
- টিকিট মূল্য: বিদেশিদের জন্য ১০০ রুপি।
- আগরতলা বিমানবন্দর যাত্রা: ১৫০ রুপি ভাড়ায় অটো নিয়ে বিমানবন্দরে চলে যান।
আগরতলা বিমানবন্দরে

- বিমানবন্দরে প্রবেশ: আপনার পাসপোর্ট ও টিকিট দেখিয়ে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করুন।
- হ্যান্ড ব্যাগেজ: ওজন সীমার মধ্যে থাকলে সাথে রাখার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
- সিকিউরিটি চেক: বেল্ট, ঘড়ির মতো জিনিসপত্র খুলে রাখুন এবং স্ক্যানিংয়ের জন্য ব্যাগ থেকে ল্যাপটপ বের করুন।
- পাওয়ার ব্যাংক: ১০,০০০ mAh-এর বেশি ক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক সাথে নেওয়া যাবে না, এগুলো ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রেখে দেবে।
ফ্লাইট এবং কলকাতায় পৌঁছানো

- ফ্লাইটে চড়া: সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কলকাতার ফ্লাইটে উঠে পড়ুন।
- কলকাতা বিমানবন্দর: এয়ারপোর্টের ভেতরের অতিরিক্ত ভাড়ার ট্যাক্সিগুলো এড়িয়ে চলুন। বাইরে হেঁটে এসে দরদাম করে ট্যাক্সি নিলে বেশ সাশ্রয় হবে।
- ভাড়া: কলকাতার মারকুইস স্ট্রিট পর্যন্ত ভাড়া পড়বে আনুমানিক ৪০০ রুপি।
কলকাতার দর্শনীয় স্থান
এক দিনেই আপনি নিচের বেশিরভাগ জায়গা ঘুরে দেখতে পারেন:
হাওড়া ব্রিজ

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল (টিকিট মূল্য: ১০০ রুপি)

সেন্ট পলস ক্যাথেড্রাল (টিকিট মূল্য: ১০ রুপি)

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি (টিকিট মূল্য: ৫০ রুপি)

বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম (টিকিট মূল্য: ১২০ রুপি)

নিউ মার্কেট

কলেজ স্ট্রিট কফি হাউস

আগরতলা রাজবাড়ি

বিমানযাত্রীদের জন্য কিছু টিপস
- ১০,০০০ mAh-এর বেশি ক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখবেন না।
- লোশন বা পাউডার জাতীয় জিনিস সাথে না নেওয়াই ভালো।
- গাড়ি বা ট্যাক্সি সবসময় এয়ারপোর্টের বাইরে থেকে বুক করুন।
- কলকাতার দর্শনীয় স্থানগুলোর টিকিট কাটার সময় আপনি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন তা উল্লেখ করুন।
- রাস্তায় চলাফেরার সময় চোখে পড়া যত্রতত্র স্পা সেন্টারগুলো এড়িয়ে চলুন।
বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন
বাংলাদেশ কাস্টমসে কোনো ঝামেলা না হলে আপনি নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে দেশে ফিরে আসতে পারবেন।
উপসংহার
এই গাইডটি অনুসরণ করলে আশা করি বাংলাদেশ থেকে কলকাতা পর্যন্ত আপনার ভ্রমণ বেশ সহজ ও আনন্দদায়ক হবে। আপনার যাত্রা শুভ হোক!
লেখক পরিচিতি
স্থানীয় ব্যবসাগুলো যাতে সহজেই সার্চ ইঞ্জিনে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারে এবং অর্গানিক ট্রাফিক বাড়াতে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়ে হাবিবুর এই এজেন্সিটি প্রতিষ্ঠা করেন। গত এক দশকে তিনি একজন টেকনিক্যাল এসইও স্পেশালিস্ট থেকে পদোন্নতি পেয়ে এখন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রিজিওনাল মার্কেটে …


Leave a comment